1. admin@www.shikhatvlive.com : news :
বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

বদলি প্রথা বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। (বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক সমিতি)

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৬২ ,৫২৫০ বার পড়া হয়েছে

 

বহু দিনের লালিত স্বপ্ন বদলি প্রথা ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে আলোচনার শীর্ষে ছিল। বহুবার আলোচনা এবং পর্যালোচনা হয়েছিল বদলি প্রথা নিয়ে। শুনা যাচ্ছিল বদলি প্রথা চালুর জন্য আলাদা সফটওয়্যারে কাজ চলছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই আশা আজ শুধুই হতাশা। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের হলোনা কোন পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন । ট্রেন চলেছে অজানা গন্তব্যে।

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এমপিও নীতিমালায় বদলি প্রথার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবতা হলো ভিন্ন। এখনো নেই তার প্রয়োগ। এখনো পর্যন্ত এমপিও নীতিমালা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সম্পূর্ণ হয়নি বাস্তবায়ন । বদলি প্রথা নিয়ে চলছে শুধু আলোচনার খেলা । বদলি প্রথা চালু করা নিয়ে নেই কোন বাস্তবমুখী পরিকল্পনা।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন আইনের মার পেঁচে বন্দি।বদলি প্রথার কার্যক্রম সচল না অচল বুঝার কোন উপায় নেই। আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালুর জন্য এটার নেই কোন ইয়াত্তা । সরকারি শিক্ষকরা বদলি হতে পারবে কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নন। এ কেমন নিয়মনীতি। কারিকুলাম এক, পাঠ্যপুস্তক এক তবুও শিক্ষা ব্যবস্থায় বিরাট ফারাক এ যেন মনে হচ্ছে বিমাতাসুলুভ আচরণ। সরকারির ন্যায় সুযোগ সুবিধা নেই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের।

২০২১সাল অতিবাহিত হয়ে গেল তবুও এখনো পর্যন্ত বদলি সিস্টেমের কোন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। যেখানে বদলি সিস্টেম চালুর প্রক্রিয়ার সংবাদ প্রকাশ করে সরকার প্রশংসা কুড়িয়ে ছিলেন। আজ তা আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বদলি সিস্টেম নিয়ে কোন কার্যক্রম লক্ষ্যনীয় নয়। নেই কোন পদক্ষেপ। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বপ্ন আজ চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছে মনে হচ্ছে।
চাকরির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে কর্ম জীবন অতিবাহিত হয়। বছরের পর বছর একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ফলে এক রকম হতাশায় অতিবাহিত হয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি জীবন । যেখানে বদলি প্রথার মাধ্যমে নতুন পরিবেশে নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়। অভিজ্ঞতাই এনে দিতে পারে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন। শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতিতে আনতে পারে পরিবর্তন।
শিক্ষিত জাতি দেশের উন্নয়নের রুপকার । শিক্ষিত জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে শিক্ষক সমাজ । শিক্ষা ব্যবস্থায় তাই শিক্ষকদের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাণ ফিরে আনতে প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলি প্রথা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি পেশায় আছে বদলি প্রথা। শুধু বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই বদলি প্রথা। বদলি প্রথার মাধ্যমে প্রতিটি পেশার কাজের গতি সঞ্চার করা হয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলি প্রথা এনে দিতে পারে গতিশীলতা। শিক্ষার মান উন্নয়নে বদলি প্রথা জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের মনোযোগ বাড়াতে বদলি একান্ত প্রয়োজন। বদলির মাধ্যমে নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ শিক্ষক তৈরি হবে। শিক্ষকরা পাঠদানের প্রতি মনোযোগী হবে। শিক্ষার্থীরা হবে উপকৃত। শ্রেণি পাঠদানের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষা ব্যবস্থা গতিশীল করতে প্রয়োজন বদলি প্রথা চালু করা। বদলি প্রথার মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তন সম্ভব। শিক্ষকরা নিত্য নতুন তথ্য উপাত্ত জানার চেষ্টা করবে । নতুন পরিবেশে প্রত্যেকে নিজকে মেলে ধরার চেষ্টা করবে। শিক্ষকরা নতুন নতুন তথ্য উপাত্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। এতে শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ গঠবে । শিক্ষা ব্যবস্থায় আসবে আমুল পরিবর্তন। একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ফলে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় না। বদলি প্রথার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়। নতুন পরিবেশে পাঠদান পদ্ধতির পূর্বের ভুল গুলো সংশোধন করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে। বেশি দিন দূর দূরান্তে চাকরি করার ফলে শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করে। আর এই হতাশার প্রভাব পড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। যা শিক্ষা ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে স্থবিরতা এনে দিবে। শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে তাই বদলি প্রথা একান্ত জরুরি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চার করতে বদলির বিকল্প কিছু হতে পারে না। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি অংশ বা অনুদান সহ যে সামান্য বাড়ি ভাড়া পাই তা দিয়ে সংসারের ভরনপোষণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। সংসার চালানোর টাকা জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। শিক্ষকদের পিছুটান দূর করতে না পারলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকদের আগে করতে হবে স্বাবলম্বী।

বাড়ি ভাড়ার কথা বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলে সর্বনিম্ন বাড়ি ভাড়া ৪০০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত। বাংলাদেশ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া পায় মাত্র ১০০০ টাকা। শহরাঞ্চলের বাড়ি ভাড়া সর্বনিম্ন ১০০০০ টাকা থেকে ২৫০০০ টাকা পর্যন্ত।

বর্তমান বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকরা সর্বোচ্চ সম্মানিত এবং এই শিক্ষকতা পেশায় সব মেধাবীরা নিজ আগ্রহে এগিয়ে আসে। কিন্তু বাংলাদেশের মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না কারণ বর্তমানে শিক্ষকদের সকল পেশার চাইতে শিক্ষকতা পেশায় সুযোগ সুবিধা কম। মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে হলে প্রয়োজন বৈষম্যবিহীন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বর্তমান সময়ে নিজ জেলায় চাকরির সুযোগ না পেয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সিংহ ভাগ শিক্ষক চাকরি করেন। কেউ কেউ নিজ জেলা বা থানা থেকে বিভিন্ন জেলায় চাকরিরত আছেন। দূর দূরান্তে চাকরি করার ফলে কারণে অকারণে আজ শিক্ষকরা হচ্ছেন নির্যাতিত। কেউ কেউ আজ হারাচ্ছেন চাকরি। এই বাস্তবতার কারণে আজ বাংলাদেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা চালু করার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী সহ দায়িত্ব প্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা গণের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি আপনারা সম্মিলিত ভাবে বদলি প্রথা চালু করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করে বৈষম্যের বেড়াজাল থেকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মুক্ত করুন।

ধন্যবাদান্তে
মোঃ আবুল হোসেন
মহাসচিব
বাবেশিস ( কেন্দ্রীয় কমিটি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত