1. admin@www.shikhatvlive.com : news :
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

সেতু ভেঙ্গে খালে, দুর্ভোগে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩৯ ,৫২৫০ বার পড়া হয়েছে

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলীতে ঝাড়াখালি এলাকায় দুইশত ফুটের একটি সেতুতে শিক্ষার্থীরা চলাচল অবস্থায় ভেঙ্গে খালে পড়ে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পায় ৫-৬ জন শিক্ষার্থী। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়াতে দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক শিক্ষার্থীসহ দুই ইউনিয়নের ৫ হাজার মানুষ। দ্রুত বিকল্প সেতু নির্মাণ না করলে বন্ধ হবে দুইটি স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া।

স্থনীয়রা নতুন সেতু নির্মানের জোর দাবি জানিয়েছেন। জানা যায়, ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগ উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ও বড়বগী ইউনিয়নের ঝাড়াখালী-বড়ভাইজোড়া সংযোগ সেতুটি নির্মাণ করে। দীর্ঘ দিনেও সেতুটি সংস্কার না করায় লোহার এঙ্গেল গুলো নোনা পানিতে নষ্ট হয়ে যায়।

এতে রোববার ( ২ জানুয়ারী) বেলা ৯ টার দিকে ব্রীজটি ভেঙ্গে যায়। চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে যাতায়াত করছেন দুটি বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী সহ দুই ইউনিয়নের ৫ হাজার মানুষ । ঝুঁকিপূর্ণ সেতুদিয়ে চলাচলের কারনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।

জোয়ারের পানিতে সেতুটি তলিয়ে থাকায় পারাপার করে যারা বিদ্যালয়ে আসত ওই সব শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে। সোমবার(০৩ জানুয়ারী) বেলা ১ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি ধসে খালের পানির মধ্যে পড়ে আছে। আর সেতুর দুই পাড়ে শিক্ষার্থীরা ও শিশুদের টিকা নেওয়ার জন্য পরাপারে জন্য দাড়িয়ে আছে এলাকাবাসী । কিন্ত পারাপারে কোন বিকল্প উপায় না থাকায় ঝুকি নিয়েই আসেন নারী ও শিক্ষার্থীরা। ঐ দুই ইউনিয়য়নের ৫ হাজার মানুষ ও শতাধিক শিক্ষার্থীদের স্কুলে-শহরে যাতায়াতের জন্য এই ব্রিজটিই সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে থাকায় দুই পাড়ের প্রায় ৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন বড় ভাইজোড়া ও নিউপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। জান্নাতি,জাহিদুল,রাহাত ও সাইদুলসহ একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, গতকাল স্কুলে আসার সময় আমরা সেতুটি পার হচ্ছি। হঠাৎ বিকট শব্দ পাই দ্রুতই সেতু থেকে দৌড়ে এক পাড়ে যাই। তবে আমাদের কিছু সহপাঠিরা অন্য পাড়ে দৌড়ে যায়। এরপরেই চোখের সামনেই সেতুটি ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়। একটুর জন্য প্রানে রক্ষা পেয়েছি। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি করছি।

 

না হলে আমাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে এমনিতেই করোনার কারনে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। ঝাড়াখালীর এলাকার বাচ্চু নামের এক অভিভাবক জানান, সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় দুই পাড়ের ছেলে মেয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে পারছে না।

এতে তাদের লেখা পড়ার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি করেন। এছাড়াও সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় দুই গ্রামের মধ্যে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমাদের জরুরী প্রয়োজনের কোন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

দক্ষিন ঝাড়াখালি এস ই এস ডি পি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সেতুটি খালের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। কিন্তু খালের ঐ পারে গ্রামের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে দুইটি বিদ্যালয়ে। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় শতাধিক শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের যাতায়াতে যে কী কষ্ট হয় তা বুঝায়ে বলতি পারব না।

কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মোল্লা বলেন,গত কাল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আসার সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই সেতুটি তাই। দ্রুত সেতুটি মেরামত করা দরকার। উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মদ আলী বলেন, সেতুটি অনেক আগে নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়াও লোনা পানিতে সেতুটির লোহার এঙ্গেল গুলো নষ্ট হওয়াতে ভেঙ্গে গেছে।

নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কাওসার হোসেন বলেন,সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়েছি। জরুরী ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত