1. admin@www.shikhatvlive.com : news :
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

‘মা-বাপ-ভাইয়ের লাশটাও পাইনায় জিপিএ-৫ দিয়া কি হরমু’হাফসার কাঁধে এখন ছোট দুই ভাই-বোনের দায়িত্ব।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২২
  • ২৫ ,৫২৫০ বার পড়া হয়েছে

 

বরগুনা প্রতিনিধি
জিপিএ-৫ পেয়েছেন লঞ্চ অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা-ভাই হারানো হাফসা। কিন্ত এ ফলে আনন্দ নেই, বরং বেদনায় নীল সে। গতকাল শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার সব আনন্দই ভেসে গেছে চোখের পানিতে। হাফসার কাঁধে এখন ছোট দুই ভাই-বোনের দায়িত্ব।

জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় লবনগোলা গ্রামের হাকিম শরীফ (৪৫) ও পাখি বেগম (৩৫) দম্পতি। তাদের চারটি সন্তান রয়েছে, দারিদ্র্যের কষাঘাতে সন্তানদের বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে রেখে আশ্রয় নেন ঢাকায়। সেখানে স্ত্রী একটি গার্মেন্টসে আর স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মীর চাকরি নেন। স্বামী-স্ত্রীর উপার্জনে কোনোমতে চলছিল তাদের সংসার। অভাবের সংসারে শুধু একটাই স্বপ্ন, সন্তানরা পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে।

তাদের বড় মেয়ে হাফসা এ বছর বরগুনা সদর উপজেলার কালীরতবক দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বেতাগীর সরিষামুড়ির বাসিন্দা রাজধানীর একটি বায়িং হাউজে কর্মরত এক পাত্রের সঙ্গে শুক্রবার বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা ছিল হাফসার। মেয়ের বিয়ের জন্য কেনাকাটা ও ব্যাংকে রাখা টাকা উত্তোলন করার পরিকল্পনা করে ২০ ডিসেম্বর আড়াই বছরের শিশুপুত্র নসিরুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় স্বামীর কাছে আসেন পাখি।

টাকা উত্তোলন ও কেনাকাটা শেষে তারা বরগুনায় ফেরার উদ্দেশ্যে ২৩ ডিসেম্বর নসরুল্লাহকে নিয়ে অভিযান-১০ লঞ্চে ওঠেন। এরপর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের পর আট দিন ধরে নিখোঁজ আছেন। তাদের মরদেহের সন্ধান না পেলেও শোকের সাগরে ভাসছে পরিবারটি। ছোট বোন সুমাইয়া (১৪) আর ভাই ফজলুলকে (১০) কে কেঁদেই কাটছে হাফসার দিনরাত। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় থমকে গেছে জীবনের সব আনন্দ। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠায় হাফসা। স্বজনদের প্রবোধ তাকে শান্ত করতে পারছে না।
ভালো রেজাল্টের সংবাদ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে হাফসা। আহাজারি করে সে বলতে থাকে, ‘এই জিপিএ-৫ দিয়া মুই কি হরমু, মোর মা-বাপ-ভাইয়ের লাশটাও পাইনায় এহনো। কারে দেহামু এই রেজাল্ট। মোর মা-বাপের সন্ধান দেন। তারা কি পুইড়া ছাই, নাকি ডুইব্বা মরছে। রেজাল্ট দিয়া কি অইবে, মোরে আর কেডা পড়াইবে!’

হাফসার নানি ফরিদা বেগম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, অগ্নিদগ্ধ অভিযান লঞ্চের স্টাফ কেবিনের ভস্মীভূত ছাইয়ের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন মেয়ে পাখি বেগমের ওড়না, অক্ষত কিছু জামাকাপড়, নাতিদের জন্য কেনা জামা প্যান্ট ইত্যাদি। এগুলো আংশিক পোড়া।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষার ফল জানার পর থেকে হাফসার কষ্টটা আরও বেড়ে গেছে। কিছুতেই কান্না থামানো যাচ্ছে না ওর। ভালো ফলাফল পেলেও হাফসার সামনে লেখাপড়া অনিশ্চিত। কারণ ভূমিহীন পরিবারে জন্ম হওয়া হাফসাকেই এখন ছোট দুই ভাই-বোনের দায়িত্ব নিতে হবে।

 

হাফসার মামা নজরুল জানান, গত ৭ দিনে নিকটাত্মীয় ছাড়া আর কেউই পাশে এসে দাঁড়ায়নি। কোনো সরকারি সহায়তায়ও দেওয়া হয়নি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত