1. admin@www.shikhatvlive.com : news :
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

খুন করে তাবলিগে ‘আত্মগোপন’, র‌্যাবের হাতে ধরা

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৮ ,৫২৫০ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট |

হাতুড়ির আঘাতে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার পর তাবলিগ জামাতের চিল্লায় যোগ দিয়ে গা ঢাকা দিতে চেয়েছিলেন এক মুয়াজ্জিন; আড়াই মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন র‍্যাবের হাতে।

লক্ষ্মীপুরের একটি মসজিদ থেকে মঙ্গলবার রাতে জাকির হোসেন নামের ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার কথা জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

বুধবার কারওয়ানবাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে কাজ করে আসছেন জাকির।

গত ৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের কাটবাড়িয়া ডাউকিয়া মসজিদের পাশে নরসিংদীর গরু ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন (৬৫) খুন হওয়ার পর জাকির লাপাত্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, “রমিজের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে কম দামে গরু কেনার জন্য ঘটনার ১০-১২ দিন আগে তাকে নেত্রকোণা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যান জাকির। রমিজ ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাংক থেকে ছয় লাখ টাকা তোলেন এবং ২ অক্টোবর রাতে জাকিরকে নিয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এবং পরবর্তীতে বড়পুল এলাকায় যান।

“পরে রমিজকে রিকশায় করে কাটাবাড়িয়া ডাউকিয়া মসজিদ এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে যান জাকির। সেখানে রমিজকে জানান, গাড়িতে করে গরু আসবে এবং ওইখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে হবে।”

মঈন বলেন, “রমিজকে কৌশলে ডাউকিয়া মসজিদের দক্ষিণ পাশে কলাবাগানে নেওয়ার পর জাকির তার সঙ্গে থাকা হাতুড়ি দিয়ে পেছন থেকে রমিজের মাথায় আঘাত করে। রমিজ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জাকির তাকে আরও কয়েকটি আঘাত করেন। পরে রমিজকে মৃত ভেবে তার সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ নিয়ে সেখান থেকে সে চলে যায়।”

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, জাকির প্রথমে নিজের গ্রাম কিশোরগঞ্জে যান এবং সেখান থেকে নরসিংদীর মনোহরদী চলে আসেন। সেখানে তিনি মসজিদে আজান দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এর মধ্যে রমিজ উদ্দিনের ছেলে কিশোরগঞ্জ মডেল থাকায় একটি মামলা দায়ের করেন। রমিজের মৃত্যুর খবর নরসিংদীতেও ছড়িয়ে পড়ে। তখন মসজিদ থেকে ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান জাকির।

নরসিংদীর মাধবদী, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও, ময়মনসিংহ সদর, সিলেট জেলার ফেঞ্জুগঞ্জ এবং সিলেট হয়ে আবারও ময়মনসিংহে যান জাকির। পরে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার একটি মসজিদে যান এবং সেখান থেকে ৪০ দিনের চিল্লায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতী উপজেলায় যান। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মঈন বলেন, “রমিজ উদ্দিন ছিলেন একজন বিত্তশালী উঠতি ব্যবসায়ী। মূলত তার টাকা আত্মসাৎ করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।”

১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মালেয়েশিয়ায় ছিলেন রমিজ। পরে দেশে ফিরে তিনি গরু বেচাকেনার ব্যবসা শুরু করেন।

জাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মঈন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর রমিজের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া ছয় লাখ টাকার মধ্যে এক লাখ টাকা জাকির খরচ করেছেন। বাকি পাঁচ লাখ টাকা বিভিন্ন জনের কাছে গচ্ছিত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত