1. admin@www.shikhatvlive.com : news :
বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:১৯ অপরাহ্ন

সংকট সমাধানে বদলি ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে হোক শিক্ষা ব্যবস্থা আমুল পরিবর্তন।।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৭ ,৫২৫০ বার পড়া হয়েছে

 শিক্ষা টিভি লাইভ ডেস্ক

২০০৫ সালে এনটিআরসিএ গঠনের পূর্বে শিক্ষাগত যোগ্যতা সাপেক্ষে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ হতো এবং পরবর্তীতে শুন্যপদ সাপেক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আবেদন করে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বদল করতে পারতো।২০০৫ সালে NTRCA গঠনের পরে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিবন্ধন পাস করে সনদ অর্জন করতে হতো।

তখন ব্যবস্থাপনা কমিটির অধীনে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রাপ্ত হয় এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিজির প্রতিনিধি ও বোর্ড প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও নিয়োগ সম্পন্ন হতো। সেক্ষেত্রে শুন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত ছিল প্রার্থীকে অবশ্যই ইনডেক্সধারী/নিবন্ধনধারী হতে হবে। নিবন্ধনধারী, কর্মরত নিবন্ধনবিহীন ইনডেক্সধারী এবং নিবন্ধনসহ ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের সমন্বয় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ইন্টারভিউ দিয়ে যেকোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সুযোগ পেত।

এভাবে প্রয়োজনে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা যতখুশি আবেদন করে চাকরি জীবনে বদলি হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠদান তথা চাকরির সুযোগ পেত।

সীমাহীন দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা রোধে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার ২০১৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা NTRCA অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কমিটি শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা হারায়। NTRCA অধীনে নিয়োগ আসার পরে শুধুমাত্র নিবন্ধধারী প্রার্থী ও নিবন্ধনধারী ইনডেক্সধারীদের সমন্বয় জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শুন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিন্তু অনিবন্ধিত ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের আবেদনের অপশন চালু না থাকায় তারা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

২০১৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত নিবন্ধনবিহীন ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা যতখুশি ততবার প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সুযোগ থাকলেও বর্তমান পদ্ধতি চালু হবার পর তাদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সুযোগ দিলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে পাশাপাশি ইনডেক্সধারী শিক্ষকরাও বদলি হতে পারবে। কারণ অধিকাংশ নিবন্ধনধারী ইনডেক্সধারী শিক্ষক শুন্যপদে বারবার নিয়োগ পাওয়ার ফলে অধিকাংশ পদ দখল হয়ে যাচ্ছে এবং বেকার নিবন্ধনধারী প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। তাই প্রত্যেক গণবিজ্ঞপ্তির পূর্বে শুধুমাত্র ইনডেক্সধারী (নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত) শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সার্কুলার জারি করলে এবং পরবর্তী মাসে অবশিষ্ট শুন্যপদ ও শিক্ষকদের ছেড়ে আসা শুন্যপদের সমন্বয় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে শুধুমাত্র বেকার নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুযোগ দিলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে পাশাপাশি শিক্ষকরাও প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন সুযোগ পাবে। এতে শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত হবে, বেকারত্ব হ্রাস ও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ঘাটতি শতভাগ পুর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতিতে সরকার বদলি ব্যবস্থা চালু করতে পারে—

ক) পারস্পরিক বদলি (মিউচুয়াল ট্রেন্সফার): সমজাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমপদে ও একই বিষয়ে কর্মরত সমঅভিজ্ঞ ইন্ডেক্সধারী শিক্ষকগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনটিআরসিএ এর বরাবরে যেকোন সময় আবেদন করে মিউচুয়াল ট্রান্সফার নিতে পারবে। -এমন বিধান করা আবশ্যক। (এমন আদেশ এখনই দেয়া উচিত।)
খ) স্বেচ্ছায় বদলি: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান শূন্য আসনে নতুন নিয়োগের পূর্বে সেচ্ছায় বদলির আবেদন চেয়ে এনটিআরসিএ প্রয়োজনমত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সমজাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমপদে ও একই বিষয়ে কর্মরত সমঅভিজ্ঞ ইন্ডেক্সধারী আগ্রহী শিক্ষকগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনলাইনে চয়েজ দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে কারো চাকরি নিরবিচ্ছিন্ন ও সন্তোষজনক ভাবে ৫ বছর পূর্ণ না হলে তিনি বদলির/ পুনঃবদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। একই প্রতিষ্ঠানের একই বিষয়ে ও পদে একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, সহশিক্ষা ইত্যাদি (জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচনের নীতি অনুসারে) বিবেচনা করে অধিক পয়েন্ট প্রাপ্ত শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলির সুযোগ পাবেন। এভাবে বদলি কার্যকর হবার পর যেসকল প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসন সৃষ্টি হবে সেগুলোতে বিধিমোতাবেক নতুন নিয়োগ প্রদান করা হবে। (এমন বিধান করা যেতে পারে।)

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ আজীবন স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা বিভাগের আর কোন উন্নয়ন মাধ্যম হতে পারে না। সাড়ে পাচ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারী, কোটি কোটি ছাত্রছাত্রী, লক্ষ লক্ষ অভিভাবক তথা আপামর বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও সুফল নিহিত রয়েছে। মুজিবর্ষে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শিক্ষা সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিশ্চিত করতে বদলি ব্যবস্থা চালু অপরিহার্য।

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ অনুসারে ২৩ অনুচ্ছেদের ৩ ধারা মতে “সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনবোধে নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করতে পারবেন।”

বেসরকারি মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ১২ নং অনুচ্ছেদের (খ) ধারা মতে “সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনবোধে নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করতে পারবেন”।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান( স্কুল কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ১২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে “সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনবোধে নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি করতে পারবেন পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা গণনার ক্ষেত্রে চাকরির বিরতিকাল বাদ যাবে।”

শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন – দ্রুত মন্ত্রীসভা উঠতে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা এ আইন প্রনয়নের মাধ্যমে তাদের দৈন্যতা, সীমাবদ্ধতা ও বৈষম্য এর অবসানের দরজা খুলবে। এমপিও নীতিমালা ১৯৯৫ থেকে এমপিও নীতিমালা ২০০৫, ২০১০ ও ২০১৮ এর বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও ধারায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থার নির্দেশনা থাকলেও আজও পর্যন্ত বদলি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হওয়া দুঃখজনক।

সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালু একান্ত জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থা ক্রমশ নিম্নগামীর পরিবর্তে ঊর্ধ্বগামী করতে, বিশ্ব মানের শিক্ষা অর্জন করতে বদলি ব্যবস্থা চালুর বিকল্প নেই। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারলাম সরকার ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ তথা মুজিববর্ষ থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বদলি ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের গণবিজ্ঞপ্তি থেকে অনলাইনে সফটওয়্যার মাধ্যমে বদলি পদ্ধতি চালু করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা আইন সংশোধন ও পর্যালোচনা কমিটির প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি। । বদলি ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষকদের মধ্যে গতিশীলতা আসবে, দক্ষতা সম্প্রসারিত হবে নতুন পরিবেশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন শিক্ষক পেয়ে আনন্দ-উল্লাসের সাথে সুন্দর ও উপভোগ্য পরিবেশ
পরিবেশ সৃষ্টি হবে। দীর্ঘদিন একই জায়গায় একই প্রতিষ্ঠানে অবস্থানের ফলে শিক্ষকদের একঘেয়েমি দূর হবে। শিক্ষকরা স্থানীয় পলিটিক্সে জড়াতে পারবে না এনং শিক্ষকদের এসিআর বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

লেখক
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (শিক্ষক ও কলামিস্ট),
সাধারণ সম্পাদক,
এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি বাস্তবায়ন কমিটি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত