1. admin@www.shikhatvlive.com : news :
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা প্রতারক রাকিব গ্রেফতার।

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৫ ,৫২৫০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:

প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করা প্রতারক রাকিব অবশেষে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে । নাম তার রাকিব ওরফে খোকন। বয়স মাত্র ২৭ বছর। এই অল্প বয়সেই তিনি চার চারটি বিয়ে করেছেন। কখনো নিজেকে র‌্যাব সদস্য, কখনো পুলিশ সদস্য আবার কখনো বিজিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নগদ অর্থ থেকে শুরু করে স্বর্নের গহনাও হাতিয়ে নিয়েছেন এই প্রতারক। পেশায় সিকিউরিটি গার্ড। তার বাড়ি নওগাঁর নিয়াতমপুর উপজেলার চকশিতা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। রাকিব এখন সংসার করছেন তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে। প্রথম দ্বিতীয় এবং চতুর্থ স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে তার। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর ছাড়াছাড়ি হয় চতুর্থ স্ত্রীর সঙ্গে। ওই স্ত্রীও রাকিবের প্রতারণার জালে আটকে পড়ে নগদ দুই লাখ টাকাসহ স্বর্ণের গহনা খুইয়েছেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি রাকিবের।
প্রতারণার শিকার ২৩ বছর বয়সের ওই যুবতী সালমা খাতুনের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাকিবকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল রাকিবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজশাহীর উদয়ন ম্যাটস নামের একটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সম্প্রতি পড়া-শোনা শেষ করে নগরীর একটি ক্লিনিকে চাকরি করছেন প্রতারণার শিকার হওয়া সালমা খাতুন। গতকাল তিনি জানিয়েছেন কিভাবে ব্ল্যাকমেইল করে একের পর এক বিয়ে করেন রাকিব সেই কাহিনী। প্রতারণার শিকার ওই নারী গতকাল নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি অভিযোগও করেছেন।

সালমা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রায় ৬ মাস আগে রাকিবের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর মোবাইলের ‘ইমো’র মাধ্যমে। রাকিব তখন নিজেকে র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে আস্তে আস্তে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এর পর রাকিব নিজেকে পুলিশের কর্মকর্তাও পরিচয় দেন। একপযর্যায়ে নিজেকে র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে রাকিব ওই যুবতীকে বিয়ের প্রস্তার দেন। শেষে মাস তিনেক আগে দুই লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে ওই যুবতীর সঙ্গে রাকিবের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পরে আবারো ওই যুবতীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে থাকেন রাকিব। এরই মধ্যে রাকিবের আচরণে ওই যুবতীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরবর্তিতে ওই যুবতি জানতে পারেন রাকিব ভুয়া র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁকে বিয়ে করেছে। এছাড়াও একইভাবে তিনি আরও তিনটি বিয়ে করেছেন। এমনকি তিনি কখনো নিজেকে বিজিবি সদস্যও পরিচয় দিয়ে থাকেন। এভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে রাকিব যুবতীদের বিয়ের ফাঁদে ফেলেনবা অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাকিবের প্রথম স্ত্রী সাপলা খাতুনের সংসারে ১০ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। এরই মধ্যে ২০১৯ সালে সাথী নামের এক যুবতীকে বিয়ে করেন তিনি। তবে প্রতারক রাবিকের বিষয়টি জানতে পেরে দ্বিতীয় স্ত্রী ওই বছরই তালাক দেন রাকিবকে। এর পর ২০২১ সালের ফেব্রূয়ারিতে বিয়ে করেন তৃতীয় স্ত্রী রেখাকে। তার পরেও থেমে থাকেননি তিনি। সর্বশেষ গত আগস্টে রাকিব চতুর্থ বিয়ে করেন রাজশাহীর ক্লিনিকে চাকরিরত ওই যুবতীকে।

তবে রাকিবের প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম স্ত্রীও রাকিবকে তালাক দিতে বাধ্য হন। সর্বশেষ চতুর্থ স্ত্রী রাকিবকে গত ৮ অক্টোবর তালাক দেন চতুর্থ স্ত্রী ওই যুবতী।

ওই সালমা বলেন, ‘আমি রাকিবের বিচার চাই। ও একের পর এক মেয়েদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত সে এভাবে প্রতারণা করতেই থাকবে।’

রাকিবের প্রেমের ফাঁদে পড়া আরেক যুবতী অভিযোগ করে বলেন, তাঁকেও একই কায়দায় রাকিব প্রেমের ফাঁদে ফেলে নগদ ১০ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি আংটি (রিং) নিয়ে নেন রাকিব। এর পর ওই যুবতীও রাকিবের প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে সরে পড়েন। গত তিন মাস আগেই রাজশাহী নগরীর আরেকটি ক্লিনিকে চাকরি করা ওই যুবতীর সঙ্গে প্রতারণা করেন রাকিব। ঢাকার আরেকটি যুবতীর নিকট থেকে এভাবে নব্বই হাজার টাকা আদায় করে রাকিব।

এভাবে অন্তত অর্ধশত যুবতীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের সঙ্গে নানাভাবে প্রতারণা করেছেন বলেও দাবি করেন ওই যুবতী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাকিব টিকটকের সঙ্গেও জড়িত। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির পোশাক পরে টিকটকের নাম করে সাধারণত যুবতীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন। প্রতারণার কারণে একবার জেলও খেটেছেন তিনি।

রাকিবের গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উৎপল সরকার পিন্টু বলেন, রাকিব একটা প্রতারক। সে একের পর এক বিয়ে করছে প্রতারণার মাধ্যমে। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ করা হয়েছে। কিন্তু তার প্রতারণা থামছেই না।’

তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রাকিব বলেন, ‘আমি কারও সঙ্গে প্রতারণা করিনি। বিয়েগুলো দুর্ঘটনাবশঃত হয়েছে। আমি আমার ভুলগুলো সংশোধ করতে চাই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলেও দাবি করেন রাকিব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, ‘ইউনিফর্মগুলো তৈরী করা হয়েছিল টিকটক করার জন্য। তবে সেটিও বাদ দিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত