1. admin@www.shikhatvlive.com : news :
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

রাজশাহীর বাগমারায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে কমিটি গঠনের অভিযোগ

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৮ ,৫২৫০ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষা টিভি লাইভ ডেক্স রিপোর্ট:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কোয়ালীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আবারও নিয়ম বহির্ভূত অবৈধ ভাবে কমিটি গঠনের অভিযোগ করেছেন ছাত্র/ছাত্রীর অভিভাবক বৃন্দ।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে গোপনে রাতা-রাতি রেজুলেশন লিখে তাতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে সদস্যদের। বিদ্যালয়ে কোন দিন কোন মিটিং করা হয়নি, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কিংবা দাতা সদস্য কাউকে কিছু জানানো হয়নি।
শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনেও কোন মিটিং করা হয়নি। এমন অভিযোগ করেছেন যাদের বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য বানানো হয়েছে তারা সহ অনেকেই।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত ০৮/১১/২০২১ইং তারিখে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঐ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মো: ইয়াকুব আলী সহ আরও দশ/বার জন ছাত্র অভিভাবক। একই ব্যাক্তিকে আবারও সভাপতি বানানোর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। টানা তিন বার একই ব্যাক্তিকে সভাপতি করার পেছনে কি কারন থাকতে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ছাত্র অভিভাবক অনেকেই জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক ঠিকমত স্কুল করেননা।
তিনি প্রকৃত পক্ষে একজন কাপড় ব্যাবসায়ী। চাকুরীর চাইতে তিনি ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। সপ্তাহের প্রতি সোমবারে তার হাটের দিন স্কুলে এসে কোন মতে হাজিরা দিয়েই তিনি অফিসের কাজের অজুহাত দেখিয়ে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাটগাঙ্গোপাড় হাটে কাপড়ের দোকানে চলে যান। তাছাড়া এই ব্যাবসার কাজে তিনি মাসে তিন চার দিন পাবনা শাহাজাদপুরে মাল কিনতে যান। এ সবকিছুই তিনি অফিসের কাজের বাহানায় সভাপতিকে ম্যানেজ করে সুবিধা গুলো নিয়ে থাকেন।
নির্ধারিত কর্ম ঘন্টা অনুয়ায়ী চলেনা এই বিদ্যালয় ১০.৩০ মি: হতে ক্লাশ শুরু করে বেলা ১.৩০ মিনিটের মধ্যেই স্কুলটি ফাঁকা হয়ে যায়। তাছাড়া সভাপতি হাতে থাকায় বিদ্যালয়ের আয়-ব্যায়ের ঠিকমত হিসাব দিতে হয়না, টানা ছয় বছরে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা তছরুপ করেছেন প্রধান শিক্ষক। কমিটির সভাপতি পরিবর্তন হলে তার নিজের দূর্নীতির ঘটনা গুলি প্রকাশ হবার আশঙ্কায় তিনি আবারও গোপনে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন ঐ এলাকার আ: খালেকের ছেলে মো: মাহাবুর রহমান, মজিবর রহমানের ছেলে দুলাল হোসেন, ওসমান আলীর ছেলে মতিউর রহমান, ছাইদুর রহমানের ছেলে শফিকুল ইসলাম সহ এলাকার অনেক সাধারন মানুষ। নানা দূর্নীতি ও অনিয়মে বিদ্যালয়টির বর্তমানে বেহাল অবস্থা।
জানা গেছে অষ্টম ও নবম শ্রেণীর রেজিঃ ফি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত এর থেকে অতিরিক্ত তিনগুন ফি আদায়ের লিখিত অভিযোগ গত ২০২০ সালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে করা হয়েছে। প্রায় ১ বছর অতিবাহিত হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বলেন, এই প্রধান শিক্ষক ইতি পূর্বে নানা দূর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন। বিদ্যালয়ের পাশ করা শিক্ষার্থীদের সনদ, আম- কাঁঠাল বিক্রয় ও বিনা রশিদে টাকা আদায় করে লক্ষ লক্ষ টাকা আতœসাধ করেছেন যার হিসাব তিনি গোপনে গোপনে করে থাকেন। এলাকাবাসীর জোরাল দাবী এই মুহর্তে অবৈধ কমিটি বাতিল করে তার পদত্যাগ ছাড়া বিদ্যালয়ের উন্নতির আর কোন উপায় দেখছিনা।
তাঁর অবহেলা অনিয়ম আর দূর্নীতির কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার মান তুলনা মূলক এত খারাপ যে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গন প্রায় সব সময়ই কৃষকদের দখলে থাকে। এসব কিছুর প্রভাবে ২০২০ ইং সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে মাত্র ১৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তী হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে উপবৃত্তি দেওয়ার নাম করে তাদের কাছ থেকেও ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আনিছার রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের অফিসে বসে মিটিং করতে হবে এমন কোন বাধ্য বাদকতা নাই। আমি নোটিশ লিখে ছেড়ে দিয়েছি। পিয়ন সকলের বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষর নিয়েছে। আমি কোন অনিয়ম করিনি, যা করি সভাপতি সাহেব ও তার ছেলে আবুল ভাইকে জানিয়ে করি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: মাহামুদুর রহমান বলেন বিষয়টি শুনেছি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত