1. admin@www.shikhatvlive.com : news :
শনিবার, ২১ মে ২০২২, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

ঝরে পড়ার উদ্বেগজনক চিত্র: কারণ খুঁজে রোধ করতে হবে

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮৯ ,৫২৫০ বার পড়া হয়েছে

কাঁকড়া শিকার শিক্ষার্থী: ছবি

এবার এসএসসির ফরম পূরণের চিত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে, করোনা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলেছে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ঝরে পড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী। আবার অন্য একটি তথ্যসূত্র থেকে জানা গেছে, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭২ শতাংশই ছাত্রী।

বলা বাহুল্য, এই পরিসংখ্যান খুবই উদ্বেগজনক। মেয়ে শিক্ষার্থীরা কেন এই বিপুল সংখ্যায় ঝরে পড়েছে এর কারণ অনুমান করা যায়। ছেলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণ হিসাবে ধরে নেওয়া যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা শিশুশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেরই বাল্যবিয়ে হওয়ায় তারা ঝরে পড়েছে।

ওদিকে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করার ক্ষমতা হারিয়েছেন করোনায়। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী অবশ্য বলেছেন, শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পর্যায়ে কেন ঝরে পড়ল এবং অন্যান্য স্তরের অবস্থা কী, তা চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য সমীক্ষা হওয়া উচিত।

আমরাও মনে করি, ছাত্রছাত্রীদের ঝরে পড়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হওয়া দরকার। তবে আমরা আরও বলব, কারণ যা-ই হোক না কেন, ঝরে পড়া ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে এসব ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে বিশেষ প্রণোদনার। উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রণোদনার অংশ হিসাবে মেয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে উপবৃত্তি। কিন্তু এটা পাওয়ার অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে, তাকে ‘অবিবাহিত’ থাকতে হবে।

ADVERTISEMENT

রাশেদা কে চৌধুরী প্রস্তাব করেছেন, যে বিপুলসংখ্যক ছাত্রী পরীক্ষায় বসছে না, তাদের মধ্যে যে ক’জনের বিয়ে হয়েছে, তাদের যদি স্কুলে দেখতে চাই, তাহলে ‘অবিবাহিত’ থাকার শর্ত তুলে দিতে হবে।

তার এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ফারুক বলেছেন, উপবৃত্তি কার্যক্রম বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ফান্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ‘অবিবাহিত’ থাকার শর্ত তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হলে এই ট্রাস্টকেই তা নিতে হবে। আমরা মনে করি, এই শর্ত তুলে নেওয়া উচিত। তাহলে ঝরে পড়া মেয়ে শিক্ষার্থীদের আমরা আবারও দেখতে পাব স্কুলে।

নারী শিক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখ করার মতো। এ খাতে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছি। এই সুনাম ধরে রাখতে হবে অবশ্যই। আর সে জন্য দরকার ছাত্রছাত্রী, বিশেষত ছাত্রীদের ঝরে পড়া রোধ করা। করোনার প্রভাব থেকে আমরা এখন প্রায় মুক্ত। এ সুযোগটিও কাজে লাগাতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত