1. shikhatvlive@gmail.com : Shikha TV Live :
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক মোকাররম হোসেন এর আবেগঘন খোলা চিঠি বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে গোলাগুলি, আহত ২৪ পরিবারের আয়ের পথ না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই কাঁকড়া শিকারের কাজে নেমেছেন, স্কুলে ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এখনো সংক্রমণের খবর আসেনি : শিক্ষামন্ত্রী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শেষ, রায় অপেক্ষামান সাধারণ পর্যটক হিসেবে মহাকাশ ঘুরে এলেন চার পর্যটক লক্ষ বেকারের আস্তা ও বিশ্বাসের প্রতিক রিং আইডি।। তরুণ উদ্যোক্তা সাহাবুর সকলের সহযোগিতা চায়। নাটোরে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত রাতের অন্ধকারে ঘরের দুয়ারে চিরকুটসহ টাকা রাজশাহীতে ভুল চিকিৎসায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশু রাফি

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায়  আবারও মুখরিত হয়ে উঠুক শিক্ষায়তন

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৩ ৫০০০ বার পড়া হয়েছে

সালাহ্উদ্দিন নাগরী

আগামীকাল থেকে দেশের স্কুল-কলেজগুলোয় সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হতে যাচ্ছে। প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কেজিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি এ মুহূর্তে বন্ধ থাকছে। স্কুলগুলোয় আপাতত কোনো অ্যাসেম্বলি না হলেও শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বা খেলাধুলা চালু রাখা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সুরক্ষায় সরকারের তরফ থেকে ১৯ দফার যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিপালিত হলে ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বাণিজ্যিক ও কর্মপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশপথে হাত স্যানিটাইজড করা এবং শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার বিষয়টি খুবই দায়সারাভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রোগ জীবাণুমুক্ত রাখতে এ কাজটি সত্যিকার অর্থেই ভালোভাবে সম্পন্ন করতে হবে। করোনা মোকাবিলায় টিকা নেওয়া ও মাস্ক পরিধানের কোনো বিকল্প নেই।

অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের প্রতিদিন নতুন মাস্ক পরিধানের সামর্থ্য নেই। অনেকেই একটি সার্জিক্যাল মাস্ক দিনের পর দিন ব্যবহার করে থাকে, আর কাপড়ের মাস্ক যে নিয়মিত ধুয়ে এবং পরিষ্কার করে ব্যবহার করতে হয় সেটিও অনেকের জানা নেই। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তরফ থেকে অভাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাস্ক, স্যানিটাইজার সরবরাহের জন্য দরকার হলে আলাদা বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রয়োজনে মাস্ক তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি, এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে দৌড়-ঝাঁপ করবে, খেলাধুলা করবে, ফলে মাস্ক হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই তাদের স্কুলব্যাগে যেন বাড়তি মাস্ক থাকে, অভিভাবকদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

করোনার সঙ্গে ডেঙ্গি মোকাবিলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, দরজা-জানালা, বাথরুমসহ পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার তো করতেই হবে একইসঙ্গে অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোর টিনের চাল ও কাঠ-বাঁশের সিলিং ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং মেঝে কাঁচা মাটির তৈরি হলে লক্ষ রাখতে হবে কোথাও যেন কোনো গর্ত এবং মাটি উঠে না থাকে।

কারণ এসব গর্ত ও সিলিংয়ের ফাঁকে সাপ বা কীটপতঙ্গ আস্তানা গেড়ে থাকতে পারে। সম্প্রতি রাজশাহী এবং পদ্মা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ‘রাসেল ভাইপার’ সাপের উপদ্রব বেড়েছে এবং এ সাপ অনেকের প্রাণও কেড়ে নিয়েছে। তাই নদী তীরবর্তী ও ঝোপ-জঙ্গল পরিবেষ্টিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে একটু বাড়তি নজর রাখতে হবে।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হচ্ছে ১৩ সেপ্টেম্বর। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু মেডিকেল কলেজই এখন খুলছে। কয়েক দিন আগে মেডিকেল শিক্ষার্থী আমার বড় কন্যাকে ভ্যাকসিন দিতে নির্ধারিত এক মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে একই প্রবেশপথ দিয়ে করোনা রোগী, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সবাই প্রবেশ করেছেন। অসতর্ক মুহূর্তে একজনের সঙ্গে আরেকজনের শরীর লেগে যাচ্ছে, একজনের নিশ্বাস আরেকজনের নাক ছুঁয়ে যাচ্ছে, ফলে ঝুঁকি বাড়ছে। আমাদের প্রাইভেট মেডিকেল কলেজগুলোতে হাসপাতাল ও কলেজ সেকশন অনেক ক্ষেত্রেই একই ভবনে অবস্থিত। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে তাদের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ আলাদা করে দিতে হবে।

ঘরে বসে অনলাইন ক্লাসে বিধিবদ্ধ ড্রেস বা পোশাক নিয়ে কারও কোনো বাড়তি চিন্তা ছিল না। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণায় প্রায় প্রত্যেকের নতুন ড্রেস ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র দরকার হয়ে পড়েছে। তাই শহুরে মায়েদের ব্যস্ততাও হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। বাড়ন্ত বয়সের ছেলেমেয়েদের ড্রেস, জুতা ছোট হয়ে গেছে, স্কুলব্যাগ ছিঁড়ে গেছে, ময়লা হয়ে গেছে। তাই এসব জোগাড়ে মায়েরা দোকানে দোকানে ঘুরছেন, দর্জির কাছে ধরনা দিচ্ছেন।

বাচ্চাদের সঙ্গে টিফিন বেঁধে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ফ্রোজেন আইটেম কিনে ফ্রিজ ভরিয়ে ফেলছেন। সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, এ যেন এক মহাযজ্ঞ। স্কুলের ছেলেমেয়েদের কথা বাদই দিলাম, কলেজপড়ুয়া সন্তানদেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা-নেওয়া, বইয়ের ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়া, টিফিন রেডি করা, লেখাপড়া করার সময় পাশে বসে থাকা, প্রাইভেট টিউটর জোগাড় করা- সবই এখন মায়েদের কাজ। তাই তাদের ব্যস্ততায় বাসা-বাড়িগুলোও সরগরম হয়ে উঠেছে।

যানজটের ঝক্কি এড়াতে অনেক মা তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরে যান না। স্কুলের সামনে বসে থেকেই সময় পার করে দেন। এতে করে অন্য বাচ্চাদের মায়েদের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে, দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গেও দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। আশা করা যায়, স্কুল খুলে দেওয়ায় মায়েদের মিলনমেলা আবারও জমে উঠবে। তাই মায়েদেরও নিজেদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার। মহামারির এ দুঃসময়ে একাধিকজনের একই বোতলে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা, একই স্যান্ডউইচে কামড় দেওয়া, অন্যান্য খাবার খাওয়া বা এ ধরনের বিষয়গুলো পারতপক্ষে এড়িয়ে চলতে হবে।

ঢাকা শহরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হরেকরকমের ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ অস্থায়ী দোকান খুলে, কেউ আবার ফুটপাথে মনোহারি সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন, অনেকে আবার ভ্যানে করে বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ ধরনের অনেক খুদে ব্যবসায়ী প্রচণ্ড অভাবে দিনাতিপাত করছেন। কেউ কেউ উপায়হীন হয়ে শহর ছেড়েছেন। তারা হয়তো আবার ফিরে আসবেন, পশরা সাজাবেন, স্ত্রী-সন্তানের মুখে আহার তুলে দেবেন।

প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেসে থেকে পড়ালেখা করে। করোনার শুরুতে তাদের অনেকেই বিছানাপত্র মেসে রেখেই বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। তাদের কেউ কেউ মেস ভাড়া পরিশোধ করতে পারেনি, আবার রুমের দখলও ছাড়েনি। এতে মেস মালিক যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, একইভাবে অনেক শিক্ষার্থীকে মেসে না থেকেই ভাড়া গুনতে হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমে এসব জটিলতার অবসান ঘটবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় স্কুল খুলে দেওয়ার পর শিশুরা ব্যাপকহারে সংক্রমিত হচ্ছে। আমাদেরও এ বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে যেন শিশুরা বিপদগ্রস্ত না হয়। আশার কথা, আমাদের সরকার শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভেবেচিন্তে প্রতিটি পদক্ষেপ ও কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

প্রায় দু’বছর ধরে শহরকেন্দ্রিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস, প্রাইভেট কোচিং, গ্রুপ কোচিং ও পরীক্ষায় হাঁপিয়ে উঠেছে। কোনো শিক্ষক রাত ১০-১১টায়, কেউ আবার ভোর ৭টায় ক্লাস নিচ্ছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে স্মার্ট ফোনের মাধ্যমেই অনলাইনে যুক্ত হতে হচ্ছে। তিন, চার ঘণ্টা একদৃষ্টিতে ছোট্ট একটি ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই সারা রাত জেগে থাকছে, সারাদিন ঘুমাচ্ছে, দৈনিক রুটিনই পরিবর্তন হয়ে গেছে। মাথাব্যথা, অলসতা ও অস্বস্তি নিয়ে ঘুম থেকে উঠছে। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, বিষণ্নতায় ভুগছে। প্রত্যাশা করি, স্কুল-কলেজ খুলে যাওয়ায় এ সন্তানেরা আবার স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনের স্বাদ উপভোগ করতে পারবে।

সালাহ্উদ্দিন নাগরী : সরকারি চাকরিজীবী

শিক্ষা টিভি লাইভ এর সংবাদ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত