1. shikhatvlive@gmail.com : Shikha TV Live :
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক মোকাররম হোসেন এর আবেগঘন খোলা চিঠি বিয়েবাড়িতে ছবি তোলা নিয়ে গোলাগুলি, আহত ২৪ পরিবারের আয়ের পথ না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই কাঁকড়া শিকারের কাজে নেমেছেন, স্কুলে ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এখনো সংক্রমণের খবর আসেনি : শিক্ষামন্ত্রী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শেষ, রায় অপেক্ষামান সাধারণ পর্যটক হিসেবে মহাকাশ ঘুরে এলেন চার পর্যটক লক্ষ বেকারের আস্তা ও বিশ্বাসের প্রতিক রিং আইডি।। তরুণ উদ্যোক্তা সাহাবুর সকলের সহযোগিতা চায়। নাটোরে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত রাতের অন্ধকারে ঘরের দুয়ারে চিরকুটসহ টাকা রাজশাহীতে ভুল চিকিৎসায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশু রাফি

নিজ প্রতিষ্ঠানেই ছয় টুকরো করে হত্যা অধ্যক্ষ মিন্টু বর্মণকে

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৬ ৫০০০ বার পড়া হয়েছে

 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেই হত্যা করা হয়েছিল। তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ও দা দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এর পর নিথর দেহটি ছয় টুকরা করে মাথার অংশটি একটি ব্যাগে ভরে রাজধানীর আশকোনায় ডোবার ভেতর রাখা হয়। দেহের অপর পাঁচটি অংশ কলেজ প্রাঙ্গণেই পুঁতে ফেলা হয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় অধ্যক্ষেরই দুই সহকর্মী শিক্ষকসহ তিনজন।

সম্পূর্ণ ক্লুহীন হত্যাকাণ্ডের ২৭ দিন পর গতকাল সোমবার র‌্যাব সদস্যরা দিনভর অভিযান চালিয়ে অধ্যক্ষ মিন্টুর টুকরা করা দেহ উদ্ধার করেন। এর আগে গ্রেপ্তার করা হয় এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রবিউল ইসলাম ও আবু মোতালেব এবং রহিম বাদশা নামে অপর একজনকে। এই রহিম বাদশা শিক্ষক রবিউলের ভাগ্নে। গ্রেপ্তারের পর তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অধ্যক্ষের দেহের অংশগুলো উদ্ধার করে র‌্যাব। গত ১৩ জুলাই ওই অধ্যক্ষ নিখোঁজ হয়েছিলেন। এর পর আশুলিয়া থানায় একটি জিডি হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ঈর্ষান্বিত হয়ে দুই শিক্ষক রবিউল ও মোতালেব মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে। এর পর ভাগ্নে রহিম বাদশাসহ তিনজন মিলে অধ্যক্ষকে হত্যার পর লাশ টুকরা করে লুকিয়ে রাখে।

কমান্ডার মঈন বলেন, অধ্যক্ষ মিন্টু জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। তিনি ভালো কোচিং করাতেন। এতে ঈর্ষান্বিত শিক্ষক রবিউল। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝগড়া হতো। অধ্যক্ষ মিন্টুর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার লভ্যাংশ নিয়েও অংশীদারদের মধ্যে মতবিরোধ হয়। এর জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। অধ্যক্ষ নিখোঁজের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় জিডি হওয়ার পর থেকেই র‌্যাব ছায়া তদন্ত করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ হত্যাকাণ্ড বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়।

২০১৯ সালে মিন্টু চন্দ্র বর্মণ মোতালেব, শামসুজ্জামান ও রবিউলকে নিয়ে আশুলিয়ায় জামগড়া বেরন এলাকার জাহিদুল ইসলামের বাড়ি ভাড়া নিয়ে ‘সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পাশেই ‘স্বপ্ন নিবাস’ নামে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে মিন্টু প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগেও তিনি ওই এলাকার অন্য এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন চাকরি করেছেন। তার স্থায়ী নিবাস লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউপির বাড়াইপাড়া গ্রামে.

গ্রেফতারকৃত তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানায়, ৭ জুলাই রবিউল, তার ভাগ্নে রহিম ও মোতালেব মিলে হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। তা বাস্তবায়নে রবিউল দা, হাতুড়ি, শাবল কিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিঁড়ির নিচে গোপনে রেখে দেয়। এর আগে শিক্ষক রবিউল স্কুলে ঢুকতে কৌশলে একটি ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করে।

১৩ জুলাই সন্ধ্যার দিকে রবিউল ও তার ভাগ্নে রহিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। কোচিং শেষে শিক্ষার্থীরা চলে গেলে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রবিউল কৌশলে অধ্যক্ষকে ১০৬ নম্বর শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা রহিম প্রথমে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। অধ্যক্ষ প্রতিহত করার চেষ্টা করলে রবিউল পেছন থেকে জাপটে ধরে। হাতুড়ি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করলে অধ্যক্ষ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এর পর রবিউল দা দিয়ে দেহ থেকে মাথা আলাদা করে ফেলে। লাশ লুকিয়ে ফেলতে তারা অধ্যক্ষ মিন্টুর দেহ ছয় টুকরা করে। ১৩ জুলাই রাত সাড়ে ১১টা থেকে পরদিন ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তারা পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

 

দেহের পাঁচ টুকরা কলেজ প্রাঙ্গণেই পুঁতে রাখা হয়েছিল : র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী খুন করার পর অধ্যক্ষের শরীরের টুকরাগুলো স্কুলের বাউন্ডারির ভেতরে শহীদ মিনারের পাশের দেয়াল-সংলগ্ন এলাকায় মাটিচাপা দেয় ওই তিনজন। এর পর হত্যায় ব্যবহূত দা ও শাবল পাশের একটি এলাকায় বালুর নিচে ফেলে দেওয়া হয়। অধ্যক্ষের জামাকাপড় ও মাথা প্যাকেট করে একটি ব্যাগে নিয়ে রাজধানীর আশকোনায় একটি ডোবায় পুঁতে ফেলে তারা। আশকোনায় একটি রাস্তার পাশে হত্যায় ব্যবহূত হাতুড়ি ফেলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিমানবন্দর রেল স্টেশনের পাশে অধ্যক্ষের মোবাইলটি ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলে দেয় তারা। এর পর তিনজনই আত্মগোপনে চলে যায়। তবে গ্রেপ্তারের পর তাদের নিয়েই দেহের টুকরাগুলো উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আশকোনার নন্দাপাড়ার একটি ডোবা থেকে অধ্যক্ষের খণ্ডিত মস্তক উদ্ধার করা হয়েছে।

শিক্ষা টিভি লাইভ এর সংবাদ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

ওয়েবসাইট ডিজাইন প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত